বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৭ অপরাহ্ন
সংবাদ নারায়ণগঞ্জ:- নারায়ণগঞ্জ শহরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র্যাব) সদস্যের উপর হামলার ঘটনায় অন্তত তিনজন সদস্য আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে নগরীর মাসদাইর বোয়ালিয়া খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মাসদাইরের বোয়ালিয়া খাল এলাকায় র্যাব-১১ এর একটি গোয়েন্দা দল তথ্য সংগ্রহের কাজ করছিলেন। এ সময় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এতে আহত হন র্যাব-১১ এর কর্পোরাল নাজিবুল, কনস্টেবল মাহি ও ইব্রাহিম। তাদের মধ্যে নাজিবুল গুরুতর জখম নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
“গোয়েন্দা টিমের চারজন ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন। এ সময় চারজনই ছিলেন সিভিল পোশাকে। দুইজন র্যাব সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে,” মুঠোফোনে বলেন র্যাব-১১ এর উপপরিচালক আব্দুর রশীদ।
র্যাব ও পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ নভেম্বর মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানে হামলার মুখোমুখি হতে হয় র্যাব সদস্যদের। ওই সময় সন্ত্রাসী জাহিদ ও তার সহযোগীরা আগ্নেয়াস্ত্র থেকে এলোপাথারি গুলি চালালে ওই এলাকার বাসিন্দা এক নারী আহত হন।
“এবারের হামলাতেও সন্ত্রাসী জাহিদ ও মাসুদ ওরফে ‘বুইট্টা মাসুদ’-এর সহযোগীরা র্যাব সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছে। তারা সবাই চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী,” নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান র্যাব-১১ এর এক কর্মকর্তা।
মঙ্গলবারের ঘটনার এক সিসিটিভি ফুটেজে র্যাবের উপর হামলা চালানো কয়েকজন যুবকের হাতে ধারালো রাম দা ও চাপাতি দেখা যায়।
বোয়ালিয়া খাল এলাকায় বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালামের। তিনি বলেন, “বোয়ালিয়া খাল ও আশেপাশের এলাকা মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের অভয়ারণ্য। প্রায় সময়ই নিজেদের মধ্যেও মারামারির ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতেও ভয় পান।”
স্থানীয়রা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ এলাকায় আগে বোয়ালিয়া নামে একটি খাল প্রবাহিত হতো। পরে স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালটি ভরাট ও দখল করে নিলে সেখানে সড়ক ও মানুষের বসার জায়গা করে দেয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু জায়গাটি পরবর্তীতে কিশোর অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আড্ডাস্থলে রূপান্তরিত হয়।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এলাকাটির বেশ কয়েকটি জায়গায় মাদকের স্পট রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ভূমিকার অংশ হিসেবে মাদকের স্পট ও বিক্রেতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। মাদক ব্যবসায়ীরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার পর বিপুল সংখ্যক র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা আশেপাশের এলাকাতে তাৎক্ষনিক অভিযান চালান। কিন্তু কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা তা জানাননি র্যাব অধিনায়ক।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা কোনো ডেভেলপমেন্ট পেলে আপনাদের জানাবো। কিন্তু মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”